দক্ষতাই সেরা পুঁজি: সার্টিফিকেট নয়, যোগ্যতায় গড়ুন আগামীর বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

প্রাবন্ধিক ও কবি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কলমেঃ জীবনে আমি অনেকবার শুনেছি— ‘এটা তুমি পারবে না’, ‘একসাথে এত কিছু করা সম্ভব না।’ সমাজ সবসময় নিরাপদ পথ খোঁজে, তাই নতুন কিছু করতে গেলেই বাধা আসে। কিন্তু সময় আমাকে একটা শিক্ষা দিয়েছে— পরিচয় নয়, দক্ষতাই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।
একটা সার্টিফিকেট দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই ঘরে টিকে থাকতে লাগে যোগ্যতা। আর সেই যোগ্যতার নামই দক্ষতা। দক্ষতা এমন এক সম্পদ, যা ব্যাংকে রাখা যায় না, কেউ চুরি করতে পারে না, অর্থনৈতিক মন্দায়ও যার দাম কমে না। আজ যা শিখছি, কাল সেটাই আমার পুঁজি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে পৃথিবী বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন আর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, নতুন কিছু শেখার মানসিকতা এবং নিজের সামর্থ্যকে কাজে লাগানোর সাহস। একজন তরুণ যখন কোডিং, ডিজাইন, কৃষি প্রযুক্তি কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা অর্জন করে, সে শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ে না— সে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
দক্ষতার আরেকটি দিক হলো আত্মনির্ভরশীলতা। দক্ষ মানুষ কখনো বেকার বসে থাকে না। সে প্রয়োজনে নিজেই কর্মসংস্থান তৈরি করে। আবার দক্ষতাই আনে আত্মবিশ্বাস। যখন আপনি জানেন আপনি কাজটি পারেন, তখন ‘পারবে না’ বলা মানুষগুলোর কথার আর কোনো মূল্য থাকে না।
আজ ১৫ জুলাই, বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস। এই দিনে আমাদের প্রত্যাশা হোক— আমাদের তরুণ সমাজ শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে ছুটবে না। তারা কারিগরি, পেশাগত, ডিজিটাল এবং জীবন-দক্ষতা অর্জন করবে। এমন দক্ষতা, যা তাদের আত্মবিশ্বাসী করবে, স্বাবলম্বী করবে এবং সমাজের জন্য মূল্যবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং বেসরকারি খাতকে একসাথে কাজ করতে হবে। পাঠ্যক্রমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ এবং উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার যুবশক্তির দক্ষতার উপর।
পরিশেষে বলতে চাই, পথ যতই কঠিন হোক, শেখা থামানো যাবে না। কারণ দক্ষতাই একমাত্র বিনিয়োগ, যার রিটার্ন কখনো কমে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন এক বাংলাদেশ গড়ি, যেখানে প্রতিটি তরুণের পরিচয় হবে তার দক্ষতা।









