ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ :
Logo বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও বেলনার সম্মান রক্ষার্থে একটি উন্মুক্ত বার্তা Logo সাভারে সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন ও ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ: তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর Logo ​লায়ন্স ক্লাব ৩১৫বি১-এর নতুন গভর্নর ড. খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার সাজাহান Logo কবিতাঃ মেঘের নাচন Logo কবিতাঃ হিংসার আগুন  Logo কবিতাঃ বিচার কি পাবে? Logo কবিতাঃ রাঙামাটির কাপ্তাই Logo জীবন মানে যুদ্ধ Logo সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভা: চেয়ারম্যান হিলু, মহাসচিব সোহেল Logo কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর ধর্মশুর মাজার রোড থেকে ১৪ বছরের কিশোর সামির নিখোঁজ, সন্ধানের আকুতি পরিবারের Logo হযরতপুর ইউপি নির্বাচন: আলোচনায় অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন তালুকদার Logo কবিতাঃ ষড়ঋতুর মেলা Logo শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা Logo কেরানীগঞ্জে পোড়াহাটি গ্রামে মিলল অজ্ঞাত লাশ: রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে পিবিআই ও ডিবি Logo কবিতাঃ ঈদুল আজহা  Logo প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে জেএ টিভি’র ব্যতিক্রমী প্রতিনিধি কর্মশালা সম্পন্ন Logo কবিতাঃ মনে আছে কি স্কুলজীবনের কথা Logo পর্দা Logo মহান মে দিবস: শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চিরন্তন সংগ্রাম ও ইসলামের নির্দেশনা Logo কবিতাঃ মে দিবস/ শ্রমের মর্যাদা

সাভারে সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন ও ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ: তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার সাভারে দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাঙচুর, মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া এবং মোবাইল ফোনের তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে সাভার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

​ভুক্তভোগী সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম ‘ঢাকা টুডে’-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি মঙ্গলবার রাতে সাভার উপজেলা পরিষদে যান। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেন, সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এসি, ফ্যান ও লাইট জ্বালিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে ফুটবল খেলা দেখছেন সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান।

​দিদারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ সময় তার ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়, মেমোরি কার্ড খুলে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনে থাকা পেশাগত ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়।

​ভুক্তভোগী আরও জানান, নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে তাকে মামলা দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সহকর্মীদের উদ্যোগ ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

খবর পেয়ে সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদাসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দীর্ঘ সময় পর দিদারুল ইসলামকে মুক্ত করা হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যান এবং পুলিশের পরামর্শে তাকে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

​জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​তবে অভিযুক্ত সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাভারে সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন ও ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ: তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

আপডেট সময় : ১১:০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সাভারে দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাঙচুর, মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া এবং মোবাইল ফোনের তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে সাভার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

​ভুক্তভোগী সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম ‘ঢাকা টুডে’-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি মঙ্গলবার রাতে সাভার উপজেলা পরিষদে যান। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেন, সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এসি, ফ্যান ও লাইট জ্বালিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে ফুটবল খেলা দেখছেন সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান।

​দিদারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ সময় তার ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়, মেমোরি কার্ড খুলে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনে থাকা পেশাগত ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়।

​ভুক্তভোগী আরও জানান, নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে তাকে মামলা দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সহকর্মীদের উদ্যোগ ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

খবর পেয়ে সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদাসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দীর্ঘ সময় পর দিদারুল ইসলামকে মুক্ত করা হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যান এবং পুলিশের পরামর্শে তাকে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

​জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​তবে অভিযুক্ত সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।