ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ :
Logo কবিতাঃ ষড়ঋতুর মেলা Logo শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা Logo কেরানীগঞ্জে পোড়াহাটি গ্রামে মিলল অজ্ঞাত লাশ: রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে পিবিআই ও ডিবি Logo কবিতাঃ ঈদুল আজহা  Logo প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে জেএ টিভি’র ব্যতিক্রমী প্রতিনিধি কর্মশালা সম্পন্ন Logo কবিতাঃ মনে আছে কি স্কুলজীবনের কথা Logo পর্দা Logo মহান মে দিবস: শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চিরন্তন সংগ্রাম ও ইসলামের নির্দেশনা Logo কবিতাঃ মে দিবস/ শ্রমের মর্যাদা Logo কবিতাঃ মে দিবসের শপথ আজ Logo মা Logo কবিতাঃ স্বপ্নের সেই দেশ Logo কবিতাঃ বাংলা নববর্ষ  Logo কবিতাঃ বন- পাহাড়ে শীত Logo গাল্লা’ থেকে খোলামোড়া: কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা Logo কবিতা: বেঈমানি বন্ধ করো Logo মানুষ হও Logo শিরোনাম- ফাগুন এলেই Logo কবিতার নামঃ মাতৃভূমির টানে Logo শিরোনামঃ আমি বিদ্রোহ, আমি মানুষ”

গাল্লা’ থেকে খোলামোড়া: কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা: রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া গ্রাম। যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি ‘খোলামোড়া বাজার’ হিসেবে পরিচিত হলেও, বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিতে এটি আজও সেই পুরনো ‘গাল্লা’। নামের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই অঞ্চলের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য ‘৪ বৈশাখের মেলা’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। আজ ৪ বৈশাখ মেলার দিন ধার্য থাকলেও, কার্যত জনশূন্য ছিল মেলার মাঠ। মাত্র দুটি বিচ্ছিন্ন দোকান ছাড়া উৎসবের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট ছিল না সেখানে।

​ইতিহাসের বাঁক: ‘গাল্লা’ থেকে খোলামোড়া

​ঐতিহাসিক তথ্য ও স্থানীয় জনশ্রুতি মতে, এক সময় এই এলাকাটি কৃষিপণ্যের বিশেষ করে শস্যের বড় আড়ত ছিল, যা স্থানীয় ভাষায় ‘গাল্লা’ নামে পরিচিত ছিল। নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে নৌপথে কৃষিপণ্য কেনাবেচার এক বিশাল কেন্দ্র ছিল এই গাল্লা। পরবর্তীতে এই বিশাল উন্মুক্ত বাজারটিই ‘খোলামোড়া’ নাম ধারণ করে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই বাজারের পত্তনের সাথে মিশে ছিল ৪ বৈশাখের বৈশাখী মেলা।

​ঐতিহ্যের অবক্ষয় ও বর্তমান করুণ চিত্র

​গত বছরও এই মেলাটি স্বল্প পরিসরে আয়োজিত হতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। আজ ৪ বৈশাখ সকালে খোলামোড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মেলার সেই চিরচেনা জৌলুস আর নেই। নাগরদোলার শব্দ, মাটির তৈজসপত্রের টুংটাং শব্দ কিংবা শিশুদের কোলাহল—সবই আজ স্তব্ধ। সারাদিনে মাত্র দুটি দোকান বসেছিল, যা ঐতিহ্যের বিলুপ্তির এক করুণ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

​কেন হারালো জৌলুস?

​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং আধুনিক যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় গ্রামীণ এই ঐতিহ্যগুলো গুরুত্ব হারাচ্ছে। এক সময় খোলামোড়ার এই মেলা ছিল অত্র অঞ্চলের মানুষের সামাজিক মেলবন্ধনের মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে বিনোদনের মাধ্যম পরিবর্তন হওয়া এবং ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মেলাটি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

​এলাকাবাসীর আক্ষেপ

​খোলামোড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শৈশব কেটেছে এই মেলাকে ঘিরে। ৪ বৈশাখ মানেই ছিল অন্যরকম এক আনন্দ। কিন্তু আজ আমাদের চোখের সামনেই সেই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি হারিয়ে গেল।”

​খোলামোড়া ও গাল্লার এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন এবং এর ঐতিহ্যবাহী মেলাটি রক্ষা করা না গেলে, অচিরেই এটি কেবল ইতিহাসের পাতায় বা পুরনো গল্পের অংশ হয়ে থেকে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাল্লা’ থেকে খোলামোড়া: কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা: রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া গ্রাম। যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি ‘খোলামোড়া বাজার’ হিসেবে পরিচিত হলেও, বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিতে এটি আজও সেই পুরনো ‘গাল্লা’। নামের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই অঞ্চলের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য ‘৪ বৈশাখের মেলা’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। আজ ৪ বৈশাখ মেলার দিন ধার্য থাকলেও, কার্যত জনশূন্য ছিল মেলার মাঠ। মাত্র দুটি বিচ্ছিন্ন দোকান ছাড়া উৎসবের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট ছিল না সেখানে।

​ইতিহাসের বাঁক: ‘গাল্লা’ থেকে খোলামোড়া

​ঐতিহাসিক তথ্য ও স্থানীয় জনশ্রুতি মতে, এক সময় এই এলাকাটি কৃষিপণ্যের বিশেষ করে শস্যের বড় আড়ত ছিল, যা স্থানীয় ভাষায় ‘গাল্লা’ নামে পরিচিত ছিল। নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে নৌপথে কৃষিপণ্য কেনাবেচার এক বিশাল কেন্দ্র ছিল এই গাল্লা। পরবর্তীতে এই বিশাল উন্মুক্ত বাজারটিই ‘খোলামোড়া’ নাম ধারণ করে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই বাজারের পত্তনের সাথে মিশে ছিল ৪ বৈশাখের বৈশাখী মেলা।

​ঐতিহ্যের অবক্ষয় ও বর্তমান করুণ চিত্র

​গত বছরও এই মেলাটি স্বল্প পরিসরে আয়োজিত হতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। আজ ৪ বৈশাখ সকালে খোলামোড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মেলার সেই চিরচেনা জৌলুস আর নেই। নাগরদোলার শব্দ, মাটির তৈজসপত্রের টুংটাং শব্দ কিংবা শিশুদের কোলাহল—সবই আজ স্তব্ধ। সারাদিনে মাত্র দুটি দোকান বসেছিল, যা ঐতিহ্যের বিলুপ্তির এক করুণ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

​কেন হারালো জৌলুস?

​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং আধুনিক যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় গ্রামীণ এই ঐতিহ্যগুলো গুরুত্ব হারাচ্ছে। এক সময় খোলামোড়ার এই মেলা ছিল অত্র অঞ্চলের মানুষের সামাজিক মেলবন্ধনের মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে বিনোদনের মাধ্যম পরিবর্তন হওয়া এবং ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মেলাটি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

​এলাকাবাসীর আক্ষেপ

​খোলামোড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শৈশব কেটেছে এই মেলাকে ঘিরে। ৪ বৈশাখ মানেই ছিল অন্যরকম এক আনন্দ। কিন্তু আজ আমাদের চোখের সামনেই সেই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি হারিয়ে গেল।”

​খোলামোড়া ও গাল্লার এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন এবং এর ঐতিহ্যবাহী মেলাটি রক্ষা করা না গেলে, অচিরেই এটি কেবল ইতিহাসের পাতায় বা পুরনো গল্পের অংশ হয়ে থেকে যাবে।